করোনাভাইরাসের দুটি দিক রয়েছে, কৃত্রিম ভাবে ভাইরাসটি বানানো হয়েছে অথবা প্রাকৃতিক উপায়ে অন্য কোন প্রাণী থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কে ছড়াল করোনাভাইরাস - যুক্তরাষ্ট্র, চীন না ব্রিটেন? আসলেই কি এটি জীবজন্তুর দেহ থেকে মানুষের শরীরে ঢুকেছে নাকি জীবাণু অস্ত্রের ল্যাবরেটরি থেকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে? যদিও আমেরিকার ভেতরে করোনাভাইরাস নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং ঘুরে ফিরে বলছেন; করোনাভাইরাস চীনের কাজ, তারাই দায়ী। বাস্তব চিত্র কিন্তু অন্য কিছু; করোনাভাইরাসের বিষয়ে আলোচনা বা লেখালেখির শুরুতেই আসে চীনের নাম। কারণ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটির উৎপত্তি এশিয়ার অন্যতম শক্তিধর দেশটিতে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশটির হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তবে বিশ্ব যখন এই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে চীন সেখানে পুরোপুরি উল্টো পথে। বিশ্বব্যাপী নোবেল করোনাভাইরাস শুধু মানুষকে আঘাত করেনি, আঘাত করেছে পুরো বিশ্বের সমাজনীতি, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং মানুষের বোধসত্তাকে। কী পরিবর্তন লক্ষ্য করতে চলছে করোনার পরবর্তী পৃথিবী ?
করোনাভাইরাস মানুষকে চিনিয়েছে তার আপন সত্ত্বা। আপনি ভয় পাচ্ছেন তো! প্রতি মুহূর্ত অতিবাহিত করছেন এক রাশ ভীতি আর গভীর শঙ্কার মধ্যে দিয়ে, যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এক প্রকার যুদ্ধকালীন সময় বলে কথা। আপনি এমন কিছু নিয়ে সংগ্রাম করছেন যা এখন পুরো একবিংশের সমস্ত ক্ষমতার ঊর্ধ্বে আসীন। যে তাবৎ বিজ্ঞানের কলাকৌশলকে নাকানি চোবানি খাওয়াচ্ছে। আর এদিকে আপনি প্রতিনিয়ত এক অদ্ভুত অদৃশ্য বস্তুর সঙ্গে লড়াই করছেন। যখন তখন যেকোনো মুহূর্তে আপনি আক্রান্ত হতে পারেন, সময়টি যেন অন্য রকম বেঁচে থাকার লড়াই। ভরসা দেওয়ার জন্য বলছি চিন্তা করবেন না। আপনি একা নন, আপনার মত আমরা সবাই ভয় পাচ্ছি, কারণ বেঁচে থাকা আমাদের ভীষণ আকুতি।
গবেষকেরা বলছে, এই ভাইরাস সহজে নির্মূল হবে না। ভবিষ্যতে অদৃশ্য এই করোনা শত্রুর সঙ্গেই বসবাস করতে হবে আমাদের। সেভাবেই চলতে হবে মনস্থির করার প্রস্তুতি নিচ্ছি সবাই। ভাইরাস থাকবে, তবে সাবধানতাই হচ্ছে ভাইরাস থেকে বাঁচার একমাত্র মুক্তি। করোনা ভাইরাস পৃথিবীকে বদলে দিবে এ চিন্তাটা তাত্ত্বিক। দুঃখজনক হল, প্রকৃতি থেকে মানুষ শিক্ষা নিতে পারেনি বলে বদলে যেতে পারছে না। মানবিকতাকে ধারণ করতে পারেনি বলে অনিয়ম আর দুর্নীতি হয়েছে বা হচ্ছে এ করোনাকালে। তাই সমাজ আর পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে প্রতিনিয়ত আহত হচ্ছে মানুষ। এতটা বৈরী পরিবেশ বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে অনুধাবন করছে একটা সত্য। বোধ করি সে সত্যটা সবার জন্য এক৷ নারী বা পুরুষ নয় বরং একজন মানুষ হিসাবে ‘আমি কিংবা আপনি অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ সবকালেই একা। সেখানে নিজের একাকীত্ব দিয়েই বুঝতে হয় নিজেকে। খুঁজে নিতে হয় জীবনের আপন সত্ত্বা ও বাঁচার কারণ।’
এইবার আসুন কিছু প্রাসঙ্গিক কথা বলি; করোনাভাইরাসের উপরোক্ত দুটি দিকেই ভাল দিক রয়েছে, মানে ঐ যে বললাম প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি কিংবা কৃত্রিম ভাবে বানানো হয়েছে। যদি ভাইরাসটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি অযুক্তি ভাবার মোটেও কোন কারণ দেখছি না। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এই রকম বায়োলজিক্যাল ওয়াপেন রয়েছে, যাকে সহজ বাংলায় বলা হয় জীবাণু অস্ত্র। মানুষ ভাইরাসটি বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে, এইভাবে উপস্থাপন করলে বিষয়টি মর্মান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে, কারণ আমরা এত খারাপ! ভাবতেই তো নিজের প্রতি ঘেন্না লাগছে, তাই নাহ? ধৈর্য ধরুন, খুব প্রগতিশীল আচরণ অনুভব করছেন, মানবিক উদারতা উগ্লে পড়ছে। আচ্ছা এই যে দশকের পর দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নৃশংস অমানবিক ভাবে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে, কেমিক্যাল ওয়াপেন নিক্ষেপ করছে, দিনের পর দিন মানুষ তার চরম বর্বরতার দৃষ্টান্ত দেখিয়ে যাচ্ছে, তারা মূলত কারা? মানুষ কি পারে আর কি পারে না তা হয়তো এতক্ষণে আপনার বোধগম্য হয়ে গেছে।
প্রযুক্তিভিত্তিক যোগাযোগ বেড়ে যাবে। তবে দরিদ্র এবং ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলো বিশেষত অপ্রস্তুত এবং দুর্বল থাকবে। ঝড় একদিন থেমে যাবে। মানবসভ্যতা এখন এক বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করছে। সম্ভবত আমাদের এই প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সংকট। এই বদলে যাওয়াটা যে শুধু আমাদের স্বাস্থ্য পরিষেবা পদ্ধতিতে হবে, ব্যাপারটা তেমন নয়। বদলে যাবে আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সংস্কৃতির গতিপথ। সরকার ও করপোরেট ব্যবস্থা বড় ধাক্কা খাবে। অনেক বড় বড় সংস্থাগুলো ধসে পড়বে। বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট থেকে শুরু করে বিমান শিল্প, অফিস ভবন, শপিংমল, এয়ারলাইনস এবং বিমানবন্দরগুলো প্রচুর ঝুঁকিতে পড়বে। অর্থনৈতিক পতনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের অনেক দেশের সরকার পড়ে যেতে পারে।
ইকুয়েডর থেকে ইরান পর্যন্ত পেট্রো-রাজ্যগুলোতে রাষ্ট্রব্যবস্থার পতন কোনো অবাস্তব দৃশ্য নয়। তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় ভেনিজুয়েলার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতি মুদ্রাস্ফীতি এবং অনাহারে আরো বেড়ে যাবে। এছাড়া তেলের দাম পড়ে যাওয়া ও হজ বাতিলের ফলে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। দেশটির বৃহত্তম আয়ের উৎস এই দুটি খাত। ভাইরাসের সংক্রমণ এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় এমনিতেই ইরানের অবস্থা খারাপ। করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক দুরাবস্থা ইরানের সরকারকে ফেলে দেবে এমন সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়ায় ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলো থেকে নিশ্চিত জীবনের আশায় লোকেরা ইউরোপ-আমেরিকার মতো উন্নত দেশে পাড়ি জমাতে মরিয়া চেষ্টা করবে। আন্তর্জাতিক বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে তারা শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করবে।
সম্প্রতি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইতিহাসবিদ ইয়োভাল নোয়া হারারি খুব উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে বলেন; এই মহামারি দুর্যোগকে পুঁজি করে এমন এক গণনজরদারি রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব হতে যাচ্ছে, যেখানে সরকার প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি মুহূর্তের চলা-ফেরা, মানুষের আবেগ-অনুভূতি, পছন্দ-অপছন্দের খবর থেকে ধরে সমস্ত কিছুর তদারকি করবে। কোভিড-১৯ কে ঘিরে যেসব স্বল্প মেয়াদী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, সেগুলো দৃঢ় ও সূক্ষ্মভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকবে। আর সেই পথ ধরে উত্থান ঘটতে পারে স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার, যেখানে চলবে গণনজরদারি। ব্যক্তিস্বাধীনতা বলে কিছুই থাকবে না। অন্যদিকে বিশ্বায়নের পরিবর্তে জাতীয়তাবাদী আচরণ প্রকট আঁকারে অনুসরণ করবে প্রতিটি রাষ্ট্র।
আসুন দ্বিতীয় প্রসঙ্গে; প্রত্যেকটি বিষয়ের যেমন ভাল দিক আছে তেমনি খারাপ দিকও রয়েছে। যদি ধরে নেওয়া হয় ভাইরাসটি প্রাকৃতিক ভাবে ছড়িয়েছে, তাহলে বলব এর পেছনে অনেকগুলো ভালো দিকও রয়েছে। অনেকেই কোভিড-নাইনটিন মহামারীকে বিশ্বায়নের কফিনের শেষ পেরেক হিসেবে অবিহিত করেছেন। অবশ্য এতদিনে কিছুটা হলেও আমাদের আন্দাজ হয়ে গেছে, একটি ভাইরাস কতোটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে। তাই আমি ভাল দিক গুলো নিয়ে কথা বলার আগ্রহ সামলাতে পারছি না। বিগত কয়েক দশক ধরে আমরা দেখেছি, বিশ্ব উষ্ণায়ন, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, জলবায়ুগত পরিবর্তন সহ নানান ধরনের সমস্যায় পৃথিবী কতোটা জর্জরিত হয়েছে।
যেখানে পরিবেশকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকিতে ছুড়ে দিয়েছি যা প্রকৃতির জন্য অবাঞ্ছনীয়, আমাদের পরিবেশের জন্য এক ধরনের খামখেয়ালীপনা ছিল। অন্যদিকে বিশ্ব নেতাদের ফাঁকা বুলি আওড়ানো শুনতে শুনতে সবার কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। নেতারা এতদিন শুধু আশ্বাসের কথা শুনিয়ে গেছেন, কাজের কাজ কিছুই করেননি। অদ্ভুত সত্য হলেও আপানর মেনে নিতে কষ্ট হবে, করোনাভাইরাস অনেকাংশেই প্রকৃতির জন্য। যার উদ্দেশ্য সবুজ, সতেজ, সুন্দর মনোরম পৃথিবী ফিরিয়ে দেওয়া। এসব কিছুর জন্যই ভাইরাসটি এতো আগ্রাসী, মরণ ঘাতক।
এক বছর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এই এক বছরে করোনাভাইরাস নানাভাবে পৃথিবীর ৭শ ৮০ কোটি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে। এই বৈশ্বিক মহামারির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বুঝতে আমাদের আরও কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। তবে ইতোমধ্যে এর তাৎক্ষণিক অনেক প্রভাব আমরা সহজেই অনুধাবন করতে পারছি।
এইবার একটু তাত্ত্বিক পর্যায়ে আলোচনা করি; ধরুন আপনি এই যাত্রায় বেঁচে গেলেন। পরবর্তী ধাপে আপনার জন্য রয়েছে আরও বেশী ভয়ানক অবস্থা। আপনাকে সম্মুখীন হতে হবে বিশ্ব খাদ্য সংকটে। এক প্রকার মহামারী দুর্যোগ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। বিশেষত পাঁচটি মৌলিক উপাদান যেমন; খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মত মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য বিষয় গুলোর অভাব দেখা দিবে প্রকট ভাবে। ভাবছেন এত বড় সংকট কিভাবে মোকাবেলা করবেন? তার কিছুটা সমাধান পাওয়া যেতে পারে গ্রামে কিংবা মফঃস্বল এলাকায় ফিরে যাওয়া।
নিজেকে টিকিয়ে রাখার লড়ায়ে এখন এটি একমাত্র পন্থা হিসেবে বেঁছে নিচ্ছে বহু ইউরোপিয়ান ধনকুবেররা। অনেকেই বেঁছে নিচ্ছে স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবন ব্যবস্থা, যার প্রথম লক্ষ্য বস্তু হবে উৎপাদন মুখী। সব কিছু চাষ করে খাওয়ার প্রবণতা। ব্যাপার গুলোকে আপনি কিভাবে নিচ্ছেন জানি না, অভূতপূর্ব সত্য এই যে, অধিকাংশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কোভিট-১৯ এর ফলে আজ কিংবা কাল একটা সময় পর এই সিভিলাইজেশন, মানে আমাদের আধুনিক সভ্যতা কলাপস করতে পারে।
মানুষের শেকড় প্রকৃতির সঙ্গে জড়িত। এ শেকড় ছিঁড়ে পালানোর আমাদের কোনো পথ নেই। কিছুদূর গেলেও মুখ থুবড়ে পড়তে হয়। প্রকৃতিও মুচকি হেসে আমাদের অসহায়ত্ব দেখে। ধরে নিতে হবে এটা আমাদের প্রকৃতির ওপর অত্যাচারের প্রতিদান। কেননা প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের জন্য আমরাই দায়ী। পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে আমরা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির ক্ষতিসাধন করে চলেছি। ফলে প্রকৃতির অবাধ ছুটে চলায় বারবার ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে। আমরা ঘটা করে পরিবেশ দিবস পালন করি। এ খাতে বরাদ্দও রয়েছে। তবে হিসাব করলে দেখা যায় পরিবেশবাদী বা প্রকৃতিপ্রেমিক সচেতন নাগরিকদের কোনো স্স্নেস্নাগানই কাজে আসে না। নদী দখল, দূষণ, বন উজাড় করা, ইটভাটাসহ নানা কারণে প্রকৃতি রাজ্য দূষণে পরিণত হয়। দিন যতই যায় বায়ুদূষণের পরিমাণ ততই বেড়ে চলে। আমরা প্রকৃতিকে মেরে আরাম আয়েশে থাকতে চাই।
বিলাসিতা করতে চাই। আমরা বুঝতে চাই না পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি গোটা বিশ্বের পরিবেশকে সুন্দর করতে পারি। বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো ক্ষেপণাস্ত্র, মারণাস্ত্র তৈরি করে প্রতিপক্ষ, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বা দৃশ্যমান শত্রম্নকে ঘায়েল করে ভাবছি আমাদের কে দাবিয়ে রাখতে পারে? কিন্তু অদৃশ্য জীবাণুকে ধ্বংস করা বা তার বিস্তার রোধ করতে পারছে না শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো। প্রকারান্তরে করোনার কাছে গোটা বিশ্ব অসহায়। খোদ আমেরিকায় করোনাভাইরাসকে আনকোরা ভাইরাস, যেটা মানুষের তেমন ক্ষতি করতে পারবে না বলে যে আস্ফালন করেছিল সেটা আজ মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
সেই আমেরিকা আজ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ও মৃতু্যর সংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রের চেয়ে শীর্ষে। হায়রে! বোকা মানুষ। আমরা ভুলে যাই প্রকৃতি ক্ষুদ্র নয়, বরং মানুষই প্রকৃতির কাছে ক্ষুদ্র। আমাদের প্রকৃতির ভেতরেই বিচরণ করতে হয় বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিজ্ঞানীরা ঘুড়িস্বরূপ যত বড়ই আবিষ্কার করুক না কেন সুতা তো প্রকৃতি বা বিধাতার হাতে। তাই বিধাতাই জানেন ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। আমাদের অবিবেচনা প্রসূত কর্মকান্ড যেন আমাদের ক্ষতি ও সর্বনাশের কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সেটাই আমাদের মূল চিন্তা হওয়া উচিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় একশ কোটি মানুষ মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। ২০১৯ সালে বিশ্বজুড়ে আত্মহত্যা করেছে সাত লাখ তিন হাজার মানুষ। মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে আত্মহত্যা ছিলো ১৭ নম্বরে। তবুও বেশিরভাগ দেশ তাদের জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র দুই শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ব্যয় করে।
জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে যে কোভিড -১৯ মহামারির ফলে দীর্ঘমেয়াদে মানসিক সমস্যার সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে। লকডাউন এবং সামাজিক দূরত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে এখন গবেষণা চলছে। এ সম্পর্কে বড় কোনো গবেষণা এখনও প্রকাশিত না হলেও ছোটখাট গবেষণা ও জরিপগুলো থেকে আমরা অনুমান করতে পারি, কোভিড-১৯ বিশ্বব্যাপী দুশ্চিন্তা ও হতাশা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে ফিউচারোলজিস্ট ডেভিড প্যাসিগ মনে করেন; কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে মানুষের আচরণে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন ঘটবে। মানুষের সংস্পর্শ কমে যাবে এবং অন্যের সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে মানুষের মনে যে ভয় কাজ করছে তা গেঁথে যাবে। যদিও তা কাটিয়ে উঠতে দশ হতে বিশ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। আর মানুষের এই আচরণের কারণে নতুন ধরণের সেবা, শিল্প, বিজ্ঞান থেকে শুরু করে অনেক কিছুতে ব্যাপক হারে পরিবর্তন আসবে। প্যাসিগ আরও মনে করেন; এই মহামারীর ফলে কম্পিউটার বিজ্ঞান আর সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের যে প্রাধান্য এখন সর্বত্র, তাকে পেছনে ফেলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে জীববিজ্ঞান।
আপনি যুক্তি দিতে পারেন যে এগুলো তো নতুন কিছু নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরকার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উভয়ই জনগণের গতিবিধি দেখার জন্য এবং নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। তবুও এই মহামারীটি নজরদারির ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। যে দেশগুলি এখন পর্যন্ত গণ নজরদারি প্রত্যাখ্যান করে আসছিল তারা স্বাভাবিকভাবে গণ নজরদারি সরঞ্জাম স্থাপন করবে। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর হলো, এটি উপর থেকে নজরদারির পরিবর্তে এখন শিরায় শিরায় নজরদারি করবে।
এতোদিন যাবত আপনার আঙুলটি যখন আপনার স্মার্টফোনের স্ক্রিনটি স্পর্শ করে এবং একটি লিংকে ক্লিক করে, তখন সরকার আপনার আঙুলটি ঠিক কী ক্লিক করছে তা জানতে চেয়েছিল। তবে করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সরকারের এই জানতে চাওয়ার বিষয় বদলে গেছে। এখন সরকার আপনার আঙুলের ত্বকের তাপমাত্রা এবং তার নিচে আপনার ধমনী - শিরার রক্তচাপও জানতে চায়।
করোনার আগে ইবোলা, সোয়াইন ফ্লু, এইডস ইত্যাদি বিপদ পৃথিবীকে প্রবলভাবে আক্রান্ত করেছিল। মানুষের আচরণ ও সম্পর্কের নেতিবাচক কারণেও বহু রোগ-ব্যাধি ছড়াতে পেরেছিল। এইডস’র ক্ষেত্রে অবাধ যৌনাচার, মেলামেলাকে দায়ী করা হয়েছিল। করোনা ছড়ানোর পেছনেও মানুষের খাদ্যভাস, আচার-আচরণ, মেলামেশার ক্ষেত্রে নানা রকম ভুল পদক্ষেপের প্রভাব রয়েছে। পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য নষ্ট করার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও কাজ করেছে এই চরম পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে। মানুষ যে নিজের ভুল কাজ ও পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত বিপদ ডেকে আনছে, তা করোনার সময়ও প্রমাণিত হয়েছে।
প্রযুক্তির অতিবিকাশের জন্য পৃথিবী যেভাবে বদলে গেছে, করোনাসহ নানা রোগ ও আর্থ-সামাজিক-পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণেও দ্রুত বদলে যাচ্ছে চিরচেনা পৃথিবীর চেহারা। এই নতুন চেহারা ও অবয়বের পৃথিবীকে নিরাপত্তাহীনতা, ভীতি ও আতঙ্কের বদলে মানবিকতা, শান্তি, সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার দ্বারা বাসযোগ্য রাখাই মানব সভ্যতার জন্য মিলিত চ্যালেঞ্জ।
আশা করছি আমর ভাবনা গুলো আপনাকেও আলোড়িত
করবে, আরও বেশী হুঁশিয়ার করবে, করোনার জন্য আপনি প্রস্তুত হতে থাকবেন দিনকে দিন।
How COVID is changing the study of human behavior. The pandemic is teaching us key lessons about crisis, communication and misinformation, so I hardly tried to explain that how to significantly influenced by the COVID-19 pandemic impact on As such changing human attitudes or it may intensify psychological disorders or precipitate others, for instance, anxiety, depression. As the coronavirus pandemic rapidly sweeps across the world, it is inducing a considerable degree of fear, worry and concern in the population at large and among certain groups in particular, such as older adults, care providers and people with underlying health conditions. Please don't try to relate it to this article on my novel Book ' Labiber Vivrom'.
------------***---------------
0 মন্তব্যসমূহ