একটি দুষ্টচক্র আমাকে প্রতারণার ফাঁদে
ফেলে। একজন ভদ্রলোক বিকাশ এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছে এমন একটি দোকান থেকে কল দিয়ে
বলল, আপনি গত দুই দিন আগে কিছু টাকা বিকাশ করেছিলেন। আমরা অন্য একটি ভুয়া নাম্বারে
রিপোর্ট করতে গিয়ে ভুলবশত আপনার নাম্বারে করে ফেলি, যদিও বিকাশ অফিসে অভিযোগটি তুলে
নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে বলে দেওয়া হয়েছে। আপনাকে যদি বিকাশ অফিস থেকে কল দেয় তাহলে বলবেন-
দোকানের এজেন্ট আপনাকে কল দিয়েছে এবং মিথ্যা রিপোর্টটি তুলে নিতে মিনতি করেছে এবং তাদের
ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছে। সুতরাং পূর্বের ন্যায় বিকাশে টাকা লেনদেন চালু রাখার জন্য
আপনি বিনীতভাবে অনুরোধ করবেন।
আমি দ্বিতীয় ফোন কলের জন্য অপেক্ষা করছি,
বিকাশ এজেন্ট কল রেখে দেওয়ার কয়েক সেকেন্ড পরেই আরেকটি কল আসে। যদিও অফিশিয়াল কোন কর্পোরেট
নাম্বার নয়। আমি শান্তভাবে কল রিছিভ করলাম, ফোনের অপর-প্রান্ত থেকে সুরেলা কণ্ঠে ভেসে
আসলো এক গুচ্ছ সংবর্ধনা, এমনতর অবস্থায় বুঝলাম তিনি নিতান্তই অশিক্ষিত এবং একই সাথে
প্রচণ্ড ধুরন্ধর প্রকৃতির। আমিও কোন অংশে কম না, বাটপারি করার জন্য তারে কিছুটা সময়
দিলাম। এসব ছলচাতুরীর কৌশল বুঝার জন্য তার কথা অনুযায়ী সবকিছু অনুসরণ করছি এমন একটা
পরিস্থিতি তৈরি করলাম। মানুষটির চালাকির ধরন দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে গেলাম, আমার এনাই-ডি
তথ্য এবং মানি ট্রানজেকশন অনুযায়ী আমাকে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছে। তারা গ্রুপিং আকারে কাজ
করে। তাদের টার্গেট বোকাসোকা লোকদের দিকে থাকে। পুরো ঘটনার স্ক্রিপ্ট এতোটাই শক্তপোক্ত
ছিলো, যেকেউ তাদের জালে ফেঁসে যেতে বাধ্য, কারণ তাদের ধূর্তামি ভীষণ নিখুঁতভাবে অবলম্বন
করবে, যার দরুন আপনিও ঠকতে পারেন।
আমি বিকাশ অফিসে কল দিয়ে বিস্তারিত সকল
ঘটনা খুলে বললাম। যেই দুইটা নাম্বার থেকে কল এসেছে সেগুলো দিলাম এবং অফিসে জিজ্ঞেস
করলাম- আমি কার এনাই-ডি কার্ড দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খুলছি সেই তথ্য ফাঁশ হয়েছে কিভাবে?
আমার সকল ট্রানজেকশন হিস্টোরি তারা কিভাবে জানে? চুরেচুরে মাশাতভাই তাই নাহ? প্রতিউত্তরে
বিকাশ অফিস থেকে সন্তুষ্টিমূলক কোন বার্তা দিতে পারলো না, বরঞ্চ আরও অযৌক্তিক কথা বলে
আমার মেজাজ খারাপ করাই দিছে।
একটা পুরনো গল্প দিয়ে ঘটনাটি শেষ করছি,
ফলে আপনিও বুঝতে পারবেন এইসব চোরের দল কারা এবং কিভাবে কাজ করে। একদল চোর শেষ রাতের
দিকে এক বর্ধিষ্ণু গৃহস্থ বাড়ি থেকে বেশ কিছু বাসনপত্র চুরি করেছিল। ভোরের আলো ফুটতেই
তারা সমস্যায় পড়ে। কারণ সকালে লোকের চোখে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। পাছে ধরা পড়ে যায়,
সেই ভয়ে চোরেরা সংলগ্ন এক সহিসের আস্তাবল থেকে একটি খাটিয়া চুরি করে। তার পরে সেই খাটিয়াতে
চোরাই মালগুলো রেখে তাকে মৃতদেহের মতো করে সাদা চাদরে ঢেকে দেয় এবং 'বল হরি হরিবোল'
বলতে বলতে রাস্তা দিয়ে চলতে শুরু করে। গ্রামের লোকজন মনে করে কেউ বোধহয় মারা গিয়েছেন।
আর তাঁকে দাহ করতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে সন্দেহ করে না।
পথে এক পাকা চোরের সঙ্গে দেখা। সেই সেয়ানা
চোর কিন্তু একবার মৃতদেহের দিকে তাকিয়েই সব কিছু বুঝতে পেরে যায়। কারণ মৃতদেহ ঢাকা
দেওয়া কাপড়ের তলা দিয়ে চোরাই বদনার নল দেখা যাচ্ছিল। চোরের সর্দারকে সে কথা জানাতেই
বাকি চোরেরা সেই পাকা চোরকে তাদের দলে যোগ দিতে বলে। এও জানায় যে, তাকেও সমান ভাগ দেওয়া
হবে। পাকা চোর খুশি হয়ে নিজে থেকে এগিয়ে এসে খাটিয়া বহনের ভাগ নিতে কাঁধ লাগায়। কারণ
সর্বসমক্ষে ভাগ নেওয়ার আহ্বান মানে মড়া বহনের ভাগ নেওয়া। পাকা চোর ইঙ্গিত বুজে কাজে
নামে এবং প্রকাশ্যে জানতে চায়, 'মেসো কখন মরেছে?' অর্থাৎ, মৃতের স্ত্রী যেন তার মাসি
এবং বাকি চোরেরা তার মাসতুতো ভাই। বর্তমানে বিকাশের পরিস্থিতি ঠিক এমনই, সহজ সরল মানুষদের
ধোঁকায় ফেলে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
আশাকরি বিকাশ প্রতারণা চক্রের পুরো বিষয়টি
বুঝতে পেরেছেন। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। আপনার টাকা-পয়সা লেনদেনের সময় যথেষ্ট নিরাপত্তা
অবলম্বন করুন। আপনি যেখানেই থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

0 মন্তব্যসমূহ