ভালবাসার শুদ্ধতা

ভাদ্র মাস,

সন্ধ্যা মেলাবার পর প্রচণ্ড গরমে কৃপা বাসায় থাকতে না পেরে যথারীতি প্রাইভেট টিউশনির জন্য বেরিয়ে পরল, তার বাসার কাছেই নিলু নামের একটা মেয়েকে হিসাববিজ্ঞান পড়ায়। মেয়েটা অঙ্কে খুব পরিমাণে কাচা, একদম কিছুই বুঝতে চায় না, নাকি কৃপা বুঝাতে পারেনা এই নিয়ে কৃপার ভাবনার শেষ নেই।

নিলুর চেহারাটা মিষ্টি, তার চোখের মণি দুটিতে এক ধরণের স্নিগ্ধতা আছে। সে কথাও বলে গানের মতো সুরে, মাঝে মাঝে মাথা নিচু করে অদ্ভুত ভঙ্গিতে হাসে যে কৃপার ইচ্ছে করে তার পিঠে হাত রেখে বলতে;

-এই কি হয়েছে? এতো কিসের হাঁসি?

আজ কৃপা নিলুর বাড়ির দরজার কলিং বেলে হাত রাখার আগেই নিলু বেরিয়ে এসে বলল;

-আজ তো স্যার পড়ব না।

-পড়বে না কেন?

-আজ পূর্ণিমা!

-পূর্ণিমাতে পড়া যায় না নাকি?

– স্যার, যাবে না কেন? তবে আজ তিন বোন মিলে ঠিক করেছি শাড়ি পরে সারা রাত ছাদে বসে গান করব।

কৃপা রীতিমতো অবাক হয়ে বলল -তুমি গানও জান?

-আমিতো স্যার ছায়ানটে গান শিখি।

-অংক ছাড়া আর সবই দেখি তুমি ভাল জান।

নিলু মিষ্টি করে হাসল, কৃপা বলল -আমি কি এখন চলে যাব?

-স্যার এক মিনিট দাঁড়ান। আপনার বেতন আব্বু আমার কাছে দিয়ে গেছেন।

-মাসতো এখনো শেষ হয়নি?

-আব্বু ব্যবসার কাজে দেশের বাইরে যাচ্ছে, ফিরতে ফিরতে মাস তিনেক লেগে যাবে।

টাকা নেওয়ার সময় নিলুর আঙুলের ছোঁয়া লেগে গেল। নিলু এমন চমকে উঠল যে কৃপা অবাক হয়ে তাকাল। নিলু মাথা নিচু করে আছে । তার শরীর কাঁপছে। নিলু ক্ষীণ স্বরে বলল, স্যার একটু চা খেয়ে যান।

-না থাক। আজ না, অন্য আরেক দিন।

-চা বানানোই আছে। যাব আর নিয়ে আসব। একটু বসুন।

চা দিতে এসে নিলুর ঠোঁটে ক্ষীণ হাসির রেখা। কিছু একটা বলতে গিয়েও সে বলল না।


কৃপা রাস্তায় নেমে পকেটে হাত দিয়ে টিউশনির টাকা গুণল। গুনা শেষ করে আকাশের দিকে তাকাল; প্রথম বারের মত চোখে পরল আকাশে বিশাল চাঁদ উঠেছে। কৃপা হাঁটতে হাঁটতে অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে চিন্তা করতে লাগল- নিলু যেদিন ভালোবাসার কথা কৃপাকে বলে দিবে, ঠিক সে-দিন থেকে কৃপা তাদের বাসায় যাবে না, কারণ, তখনই সব ভালো লাগার পরিসমাপ্ত ঘটবে। কিছু ভালো কথা না বলাই ভালো। তেমনি কিছু ভালো লাগা না লাগানোই ভালো। কৃপা তার সমগ্র জীবনে এমন একজন মানুষ হতে চেয়েছে, যার ভেতর কোন ক্ষুদ্রতা থাকবে না। প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য তাকে ঘিরে থাকবে। সে গভীর ভালোবাসায় পরিশুদ্ধ হতে চায়...


বিঃদ্রিঃ লেখার অংশ বিশেষ ‘লাবিবের বিভ্রম‘ বই এর ‘ঘর পালানো’ ছোট গল্প থেকে নেওয়া। পুরো গল্পটি পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুণ।

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ